মূল অংশে যান

কোন দেশের কফির স্বাদ কেমন: origin গাইড

Ethiopia থেকে ভারত পর্যন্ত আটটি দেশের কফির সাধারণ স্বাদের প্রবণতা, আর বাংলাদেশের পাহাড়ি জেলায় কফি চাষের সংক্ষিপ্ত তথ্য।

দেশ দেখে কফির স্বাদ কিছুটা আন্দাজ করা যায়, তবে সেটি প্রবণতা মাত্র, কাপের নিশ্চিত বর্ণনা নয়। Seattle Coffee Gear-এর ব্লগের বর্ণনায় Ethiopia-র কফি সাধারণত সূক্ষ্ম, Kenya-র উজ্জ্বল acidity-যুক্ত, Colombia-র সুষম আর Sumatra-র creamy ও full bodied। বাংলাদেশেও পাহাড়ি জেলায় কফি চাষ হচ্ছে, কিন্তু ব্যবহৃত সূত্রগুলোতে সেই কফির স্বাদের কোনো বর্ণনা নেই।

কোন দেশের কফির স্বাদ কেমন হয়?

Origin মানে কফি যে দেশ বা অঞ্চলে ফলেছে। নিচের ছকের বর্ণনা Seattle Coffee Gear-এর ২০২১ সালের একটি ব্লগ থেকে নেওয়া; এটি গবেষণার ফল নয়, সাধারণ প্রবণতার বর্ণনা।

দেশ সাধারণ প্রবণতা (ব্লগের বর্ণনা)
Ethiopia আধুনিক Ethiopian কফি সূক্ষ্ম (delicate), jasmine ও berries-এর মতো notes-সহ
Kenya rich ও fragrant (সুগন্ধি) brew, ফলের notes ও উজ্জ্বল (bright) acidity
Colombia সাধারণত সুষম (balanced), chocolate ও ফলের মতো classic কফি-notes
Brazil spice, chocolate ও ফলের notes
Guatemala ফুল ও citrus-এর ঘ্রাণ, সাধারণত full bodied (মুখে ঘন অনুভূতির) ও bright; মোটামুটি সুষম, কাপে chocolate ও সামান্য nuttiness
Indonesia (Sumatra ও Java) Sumatra: creamy, smooth, full bodied। Java: balanced, rich, medium body ও acidity
Vietnam Sumatra-র কফির মতো, সঙ্গে সামান্য বাড়তি earthy note; গাঢ় roast-এর সঙ্গে মানানসই, তবে সব ধরনের roast-ই পাওয়া যায়

ব্লগের ব্যাখ্যায় অঞ্চলভেদে স্বাদ আলাদা হওয়ার কারণ মাটির গঠন, উচ্চতা, জলবায়ু, রোদের পরিমাণ ও কফি গাছের varietal (জাত)-সহ অনেক কিছু। তাই এই ছক শুরুর দিকনির্দেশ, চূড়ান্ত রায় নয়। Process কীভাবে স্বাদ বদলায়, তা আছে Washed, natural ও honey process লেখায়।

ভারতের কফি কেমন?

Seattle Coffee Gear-এর ব্লগে ভারত নেই, তাই এখানে Coffee Board of India-র speciality কফির পাতা ব্যবহার করা হয়েছে। পাতাটি কফির নাম, অঞ্চল, প্রস্তুত-পদ্ধতি ও কাপের বর্ণনা দেয়:

  • Mysore Nuggets Extra Bold: Chikmagalur, Coorg, Biligiris, Bababudangiris ও Shevaroys অঞ্চলের washed Arabica থেকে তৈরি। Board-এর ভাষায় বীজ খুব বড়, সমান ও নীলচে-সবুজ; কাপে full aroma, medium থেকে ভালো (good) body, ভালো (good) acidity ও fine flavour, সঙ্গে সামান্য spice-এর আভাস।
  • Monsooned Malabar: দক্ষিণ ভারতের পশ্চিম উপকূলের curing works-এ (যেখানে কফি প্রস্তুত করা হয়) শুকনো পদ্ধতিতে প্রস্তুত Arabica ও Robusta বীজ মৌসুমি আর্দ্র বাতাসে ফুলিয়ে তৈরি। কাজটি জুন থেকে সেপ্টেম্বরে হয়, ১২ থেকে ১৬ সপ্তাহে শেষ হয়। Board-এর ভাষায় এতে বীজ হলদে হয়, acidity কমে এবং পুরনো (aged) কফির মতো ভারী, syrupy ‘flatness’ আসে; কফিটি মূলত blend-এ ব্যবহৃত হয়, কড়া ও বেশি acidic কফিকে নরম করতে এবং richness যোগ করতে।
  • Robusta Kaapi Royale: Coorg, Wayanad, Chikmagalur ও Travancore অঞ্চলের Robusta থেকে তৈরি; Board-এর ভাষায় কাপে full body, soft, smooth ও mellow flavour।

Arabica আর Robusta কীভাবে আলাদা, তা পড়ুন Arabica vs Robusta লেখায়।

বাংলাদেশের পাহাড়ে কফি কতটা চাষ হচ্ছে?

Mongabay-র ২১ মে ২০২৪ তারিখের প্রতিবেদন (লেখক Abu Siddique) অনুযায়ী:

  • কফি বাংলাদেশের দেশজ ফসল নয়; গত কয়েক বছরে পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষকরা এটি চাষ করছেন।
  • চাষ মূলত পার্বত্য চট্টগ্রামে, যার তিনটি পাহাড়ি জেলা বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি।
  • কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (DAE)-এর প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী কফি প্রায় ২,০০০ হেক্টর জমিতে হচ্ছে, যার প্রায় ১,৮০০ হেক্টর পার্বত্য চট্টগ্রামে। দেশের বর্তমান উৎপাদন প্রায় ২৫ টন বলা হয়েছে, তবে এই সংখ্যার কোনো সূত্র প্রতিবেদনে নেই।
  • DAE-র তথ্য অনুযায়ী Arabica ও Robusta, এই দুই ধরনের কফি চাষ হচ্ছে। বম (Bawm) সম্প্রদায় বাড়ির আশপাশে কফি চাষ করে ও নিয়মিত পান করে বলেও প্রতিবেদনে আছে।
  • পরিবেশ নিয়ে দুই দিকের কথা আছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাহাড়ে বড় আকারের কফি চাষ বাস্তুতন্ত্রের বৈচিত্র্য নষ্ট করবে; Arannayk Foundation-এর senior adviser Farid Uddin Ahmed বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদে এটি অঞ্চলের প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস করবে। DAE-র cashew nut and coffee প্রকল্পের পরিচালক Shahidul Islam বলেছেন, তাঁদের একটি লক্ষ্য সবুজ আচ্ছাদন বাড়ানো।

সংখ্যাগুলো ২০২৪ সালের মে মাসের, পরে বদলে থাকতে পারে। প্রতিবেদনে কফির স্বাদ বা মান নিয়ে কিছু বলা নেই, তাই বাংলাদেশের কফির স্বাদের প্রবণতা এখানে দেওয়া হলো না।

দেশ দেখে কফি বাছবেন কীভাবে?

  1. আগে নিজের পছন্দ ঠিক করুন: ফলের মতো উজ্জ্বল ও সূক্ষ্ম, নাকি chocolate-ঘেঁষা ও full bodied।
  2. ছক থেকে কাছাকাছি প্রবণতার দুটি আলাদা দেশের কফি নিন।
  3. দুটি কফি একই অনুপাত ও একই পদ্ধতিতে বানিয়ে পাশাপাশি চাখুন।
  4. যা পেলেন, Flavor wheel-এর শব্দে লিখুন; ছকের বর্ণনার সঙ্গে মিলল কি না মিলিয়ে দেখুন।

সংক্ষেপে

  • দেশ দিয়ে স্বাদের আন্দাজ মেলে, কিন্তু সেটি প্রবণতা; মাটি, উচ্চতা, জলবায়ু ও varietal কাপ বদলে দেয়।
  • Seattle Coffee Gear-এর বর্ণনায় Ethiopia সূক্ষ্ম, Kenya উজ্জ্বল acidity-যুক্ত, Colombia সুষম, Brazil-এ spice-chocolate-ফল, Guatemala full bodied ও bright।
  • Sumatra creamy ও full bodied, Java balanced ও medium body; Vietnam-এর কফি Sumatra-র কাছাকাছি, সঙ্গে সামান্য earthy note।
  • ভারতের Mysore Nuggets Extra Bold, Monsooned Malabar ও Robusta Kaapi Royale Coffee Board of India-র পাতায় নাম, অঞ্চল, পদ্ধতি ও কাপের বর্ণনাসহ আছে; monsooning-এ acidity কমে।
  • Mongabay (মে ২০২৪) অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রায় ২,০০০ হেক্টরে কফি হচ্ছে, মূলত তিন পাহাড়ি জেলায়; স্বাদের বর্ণনা সেখানে নেই।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

একই দেশের সব কফির স্বাদ কি এক?

না। Seattle Coffee Gear-এর ব্লগ অনুযায়ী অঞ্চলভেদে স্বাদ আলাদা হয় মাটির গঠন, উচ্চতা, জলবায়ু, রোদের পরিমাণ ও কফি গাছের varietal থেকে। তাই দেশভিত্তিক বর্ণনা সাধারণ প্রবণতা মাত্র, প্রতিটি কাপের নিশ্চিত বর্ণনা নয়।

Ethiopia আর Kenya-র কফির স্বাদে কী পার্থক্য বলা হয়?

ব্লগের বর্ণনায় আধুনিক Ethiopian কফি সূক্ষ্ম (delicate), jasmine ও berries-এর মতো notes-সহ। Kenyan কফি rich ও fragrant, ফলের notes ও উজ্জ্বল acidity-সহ। এগুলো সাধারণ প্রবণতা, নির্দিষ্ট কোনো কাপের বর্ণনা নয়।

Monsooned Malabar কী?

Coffee Board of India-র বর্ণনায় এটি দক্ষিণ ভারতের পশ্চিম উপকূলের curing works-এ তৈরি কফি, যেখানে শুকনো পদ্ধতিতে (dry processed) প্রস্তুত Arabica ও Robusta বীজ মৌসুমি বাতাসের আর্দ্রতায় ফুলে ওঠে। প্রক্রিয়াটি জুন থেকে সেপ্টেম্বরে চলে ও ১২ থেকে ১৬ সপ্তাহে শেষ হয়; Board-এর ভাষায় এতে বীজ হলদে হয় ও acidity কমে।

বাংলাদেশের কোন জেলায় কফি চাষ হচ্ছে?

Mongabay-র ২০২৪ সালের মে মাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী মূলত পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন পাহাড়ি জেলা বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (DAE) প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী মোট প্রায় ২,০০০ হেক্টরের মধ্যে প্রায় ১,৮০০ হেক্টর পার্বত্য চট্টগ্রামে।